নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা

১৪

দেশী বার্তা অনলাইন।

নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকট; আরবদের সঙ্গে জোট করলে আইজেনকট হতে পারেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী

প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার কয়েক দফায় বৈঠকে বসেছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা।

তবে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার বিষয়ে বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশের জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ।

শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর নিজস্ব দল লিকুদ পার্টির দখলে রয়েছে ২৭টি আসন। বিপরীতে, নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব জোটের দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পেয়েছে মোট ১৯টি আসন।

এই দুই দলের সমর্থন বিরোধী শিবিরের পক্ষে গেলে তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টি, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে বেশি। এদিকে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধীদের দফায় দফায় বৈঠক, সরকার গঠনে আরব দল নিয়ে মতবিরোধ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা কয়েক দফায় বৈঠক করেন। তবে সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান পৃথকভাবে রাআম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস, ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকট এবং বি’য়াচাদ দলের নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। অন্যদিকে বি’য়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেটও আইজেনকট ও গোলানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সরকার গঠনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী চার দলের মধ্যে ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু—এই তিনটি দল আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে আগ্রহী নয়।

ফলে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন যুক্ত হলে বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছালেও সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কেবল ডেমোক্র্যাটস চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

শুক্রবার ইসরায়েলের উদারপন্থী সংবাদপত্র হারেৎজে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে গোলান আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের অধিকার তার পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমিত করা যায় না। একজন আরব নাগরিকের ভোটের গুরুত্ব একজন ইহুদি নাগরিকের ভোটের সমান। শুধু পরিচয় বা নামের কারণে লাখো নাগরিকের ভোটের মূল্য অস্বীকার করা গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিরোধীদের জয় দাবি লাপিদের

নির্বাচনের ফলাফলকে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিরোধীরা সরা

নির্বাচন ঘিরে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও বিতর্ক

ইসরায়েলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইতের প্রধান ডেভিড জিনি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট।

বৈঠক শেষে আইজেনকট বলেন, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পেশাদার সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ করেন আইজেনকট। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন নেসেটের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে শিন বেইতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের পরিধি সীমিত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন মেনে ভোট দেওয়া আরব নাগরিকদের সামগ্রিকভাবে সন্দেহের আওতায় আনা উচিত নয় বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের স্বচ্ছতা কিংবা গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *