দেশীবার্তা অনলাইন

অনিয়ম ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের তালিকায় বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
শুক্রবার খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ২৮ জনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া সদস্যরা খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তালিকায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদেরও নাম রয়েছে।
পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের সঠিক প্রয়োগ, অপরাধ দমন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিতে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ দমন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়। এর ফলে অপরাধীরা অনুকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে এবং নাগরিকেরা পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়সংগত সেবা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েন।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রথমে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। তাঁর মতে, পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।