Parse error: syntax error, unexpected single-quoted string "));" in /www/wwwroot/x3b9889.oaxx.top/index.php on line 514
ব্যবসায়ী খোকন হত্যা মামলায় তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ব্যবসায়ী খোকন হত্যামামলায় তিন আসামির স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি

দেশী বার্তা প্রতিনিধি |শরীয়তপুর

ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে জখম ও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন তাঁরা। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গতকাল সোমবার রাতে শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত বুধবার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাঁকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস তিনজনের নাম উল্লেখ করে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত শনিবার দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে র‍্যাব তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন রোববার রাতে তাঁদের ডামুড্যা থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেদিন রাতেই পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিন আসামিই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গতকাল রাতে ডামুড্যা থানা থেকে আসামি সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদারকে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে পৃথক তিন বিচারকের কাছে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামি রাব্বি মোল্যা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে, সোহাগ খান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে এবং পলাশ সরদার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে জবানবন্দি দেন।  ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার দিন বুধবার থেকেই তিন আসামি খোকন চন্দ্র দাসকে অনুসরণ করছিলেন। রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সময় তাঁরা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে কেউরভাঙা বাজার থেকে তিলই এলাকায় যান এবং খোকনের বাড়ি যাওয়ার পথে ওত পেতে থাকেন। খোকন প্রধান সড়ক থেকে হেঁটে বাড়ির পথে ঢুকলে তাঁকে গতিরোধ করে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের চারটি স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। এরপর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে বোতলে করে পেট্রল সঙ্গে নিয়ে যান আসামিরা। খোকনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হলেও কোনো টাকা নিতে পারেননি বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *