স্টাফ রিপর্টার, দেশীবার্তা।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষি সেল আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজারে নানা ধরনের কার্ডের বিস্তার থাকলেও কৃষকেরা বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন—এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “শুধু একটি কার্ড হাতে তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার মান ও কার্যকারিতা কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা জরুরি।”
তিনি আরও সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রশাসন বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের উসকানি বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সরকারকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বর্তমান সময়ে সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সেমিনারে দেশের চলমান কৃষি পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে চলতি মৌসুমে দেশের বোরো ধানের প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজেট বাড়লেও কৃষি খাতে বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তার মতে, মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ থাকা উচিত। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ‘প্রাইস কমিশন’ গঠন এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজ সাদি-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়: সরকার। নাসীর উদ্দিন পাটয়ারি । দেশীবার্তা ।