জলঢাকায় ১২ কোটির সেচ প্রকল্প, মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও শুরু হয়নি কাজ, দুর্নীতির অভিযোগ

৪৩

​মোঃ জামিয়ার রহমান, নীলফামারী

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ‘T2TS4T’ সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ডালিয়া ডিভিশনের কর্মকর্তাদের চরম অবহেলা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ফলে সরকারি এই বিশাল বরাদ্দ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্পের বাস্তব চিত্র ও অনিয়মের খতিয়ান পাউবো’র ডালিয়া ডিভিশনের অধীনে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্যাকেজ সেচ প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় মাহিয়া এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী বালাগ্রাম ইউনিয়ন চৌপুতি থেকে পূর্ব বালাগ্রাম পর্যন্ত ২.৮ কিলোমিটার ক্যানেল নির্মাণের কথা ছিল। বর্তমান অবস্থা নির্ধারিত স্থানটিতে এখনো এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। কর্মকর্তাদের দায়সারা বক্তব্য প্রকল্পের অচলাবস্থা নিয়ে ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের কাজ শেষ হলেও বালাগ্রামের কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে কাজের শিডিউল বা ধীরগতির কারণ নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ সজীব জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। তার দাবি, ক্যানেলের দুই ধারের গাছ কাটার টেন্ডার জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি কেবলই একটি অজুহাত। ঠিকাদারের অস্পষ্টতা ও ঊর্ধ্বতন মহলের উদাসীনতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহিয়া এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। দৃশ্যমান কোনো কাজ না থাকলেও তাদের দাবি, “শিডিউল মোতাবেকই কাজ চলছে।” সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রকল্পের এই অচলাবস্থা ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না। কৃষকদের হাহাকার ও স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ সজীব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশেই প্রকল্পের টাকা লোপাটের নীল নকশা তৈরি হয়েছে। ​”ক্যানেলটি সময়মতো নির্মিত না হওয়ায় আমরা হাজার হাজার কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকারের এতগুলো টাকা কোথায় যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই।” ক্ষুব্ধ একজন স্থানীয় কৃষক এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *