
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে কী ধরনের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগের কথা বলা হয়নি। এসব কারণে তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়নে চাঁদাবাজি ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা বড় বাধা: এটিএম আজহার
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাঁর মতে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে এবং অতীতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগের উল্লেখ নেই।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো সাধারণত নিজেদের কর্মকাণ্ডকে সফল হিসেবে তুলে ধরে এবং অনেক সময় সাধারণ মানুষের মতামতের চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়নকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে বাস্তব সমস্যা ও জনগণের চাহিদা নীতিনির্ধারণে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এটিএম আজহার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির কারণে বাজারব্যবস্থা ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর পড়ছে, যার বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে হলে সবার আগে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনাসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও আরও অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। জনগণের জানমাল ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, উন্নয়ন নিয়ে যেসব প্রচারণা চালানো হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের চিত্রের মিল পাওয়া যায় না। জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার অভাব এবং ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সুযোগ নেই। দলের কোনো নেতা বা কর্মী অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, উপজেলা প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।