১১৬ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিতে তালিকা দিলো সিআইডি

২৬
১১৬ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিতে তালিকা দিলো সিআইডি
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও এ-সংক্রান্ত অবৈধ আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে নিয়মিত সাইবার নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া দমন ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড শনাক্তে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট নিয়মিত সাইবার নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের ১ মে থেকে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব সাইট বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৮৭৯টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে সেগুলোর তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিআইডি প্রধান বলেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছিল। এসব প্ল্যাটফর্মে বিকাশ, নগদ, রকেট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন হতো। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতেন এবং এর বড় একটি অংশ বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন।

অভিযানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ১৩টি মোবাইল ফোন ও ২০টি সিম কার্ড। এছাড়া ভুয়া এজেন্ট সিম দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত একাধিক কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও ব্যবহৃত ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *