মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমতেই দেশের আবহাওয়ায় দেখা দিচ্ছে পরিবর্তন।

১

দেশীবার্তা অনলাইন

বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। শুক্রবার বিকেলের পর দেশের কোথাও এর সক্রিয় উপস্থিতি না থাকায় সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত পূর্বাভাসে মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে প্রায় চার মাস ধরে চলা বর্ষা মৌসুমের অবসান ঘটেছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত ৬ জুন টেকনাফ উপকূল দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। পরবর্তী সময়ে তা ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়।

মৌসুমি বায়ু বিদায়ের দিন পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত হলেও এর পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। রাজধানীতে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সাতক্ষীরায়।

এদিন দেশের তাপমাত্রাও আগের কয়েক দিনের তুলনায় কম ছিল। সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটি ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। রাজধানী ঢাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি কিছুটা কমেছে।

রাতে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে জানান, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে হতে পারে। এতে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও হ্রাস পেতে পারে। তবে নিকট ভবিষ্যতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। তবে সেটি দুর্বল অবস্থায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এর প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর দেশে একটানা বা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, এ সময় সাধারণত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসে, আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস পায়। এর ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে শীতের আবহ অনুভূত হতে শুরু করে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি এবং সেগুলোর শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর মাসের পূর্বাভাসেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লঘুচাপের কোনোটি পরবর্তী সময়ে নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *