দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কঠিন চাপ অনুভব করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

২৯

দেশীবার্তা

দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কঠিন চাপ অনুভব করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এক সাংবাদিক তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টির ছাপ তিনি লক্ষ্য করেছেন। আমারও একই ধরনের অনুভূতি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও দায়িত্বের ভার যে কতটা বড়, তা প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করছি। দেশের সামনে এখনও বহু চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রত্যাশাও অনেক উঁচু। সবকিছু মিলিয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।

নিজের বাবা ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে গাড়িতে সহযাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁর বাবার একটি কথা মনে পড়ে। তিনি জানান, একসময় জিয়াউর রহমান তাঁর এক সহকর্মীকে বলেছিলেন, দিনের দৈর্ঘ্য যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হতো, তাহলে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হতো।

তারেক রহমান বলেন, বাবার সেই কথার মতোই সম্প্রতি তিনি নিজেও উপলব্ধি করছেন যে সময় যেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কখন অফিসে প্রবেশ করছেন আর কখন সন্ধ্যা নেমে আসছে, তা বুঝে ওঠার সুযোগই মিলছে না। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে বিশ্রামের সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাঁরও মনে হয়, দিনের সময়সীমা আরও দীর্ঘ হলে দায়িত্ব পালন সহজ হতো।

প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারাবাস, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই নির্যাতনের প্রভাব এখনও শরীরে রয়ে গেছে এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে কিছু শারীরিক জটিলতাও থেকে গেছে।

তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী করে চললে ব্যক্তিগত ক্ষতি পূরণ হবে না কিংবা শারীরিক কষ্টও দূর হবে না। তাই পুরোনো ক্ষোভে আটকে না থেকে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের কোনো বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়। বর্তমান প্রশাসনও মুক্ত ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, তবে সেসব নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও আলোচনা হওয়া উচিত।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের সহায়তা ছাড়া সরকার সবসময় বুঝতে পারবে না কোন কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে আর কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে। তাই তিনি গণমাধ্যমের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *