টেকনাফের ছয়টি ট্রলারের মাছ ও মালামাল লুট করেছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’

টেকনাফের ছয়টি ট্রলারের মাছ ও মালামাল লুট করেছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’
মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাত থেকে ছাড়া পাওয়া টেকনাফের জেলেরাছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের নৌবাহিনী বাংলাদেশের ছয়টি ট্রলার লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সেন্ট মার্টিন উপকূলে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের নৌবাহিনী ছয়টি ট্রলারসহ প্রায় ৫৬ জন জেলেকে আটক করে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাদের মিয়ানমার জলসীমা থেকে মুক্তি দেওয়ার পর, ফিরে আসা জেলেরা অভিযোগ করেছেন যে, মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ট্রলারের মাছ, তেল, জাল ও খাদ্যসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।

জেলেরা জানিয়েছেন, বুধবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে মাছ ধরার সময় তাদের ট্রলার মিয়ানমারের জলসীমায় নিয়ে যায় মিয়ানমারের নৌবাহিনী। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে, সেন্ট মার্টিনের ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মান্নান জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক সমিতির সদস্যরা তাকে ছয়টি ট্রলার ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে, ট্রলারগুলো শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়া ঘাটে নোঙর করে। তবে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সদস্যরা ট্রলারের ১০-১২ লাখ টাকার রূপচাঁদা, ইলিশ, তেল, জাল ও খাদ্যসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও, কয়েকজন জেলেকে মারধরও করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য, ছয়টি ট্রলারের মালিকরা হলেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা বশির আহমদ, মো. আমিন, নুরুল আমিন, আবদুর রহিম ও মো. শফিক, যেখানে মো. শফিক দুটি ট্রলারের মালিক।

ফেরত আসা ট্রলারের কয়েকজন জেলে জানান, বুধবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মৌলভীর শীল এলাকায় তারা মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ চারটি স্পিডবোট নিয়ে মিয়ানমার নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। ওই সময় ছয়টি ট্রলারে মোট ৫৬ জন জেলে ছিলেন, যাদের সবাইকে ধরে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে কয়েকজন জেলেকে মারধরও করা হয় এবং ট্রলারে থাকা ১০-১২ লাখ টাকার মাছ, তেল, জাল ও খাদ্যসামগ্রী লুট করা হয়।

শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি বশির আহমেদ বলেন, “সাগর থেকে ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে ওই ঘটনা জানতে পেরেছি। পরে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। জেলেরা নিরাপদে ফিরলেও, ট্রলারে থাকা মাছ, জাল, তেল এবং খাদ্যদ্রব্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

ট্রলারে লুটপাট ও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, “কয়েকজন জেলে তাঁকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাঁদের ট্রলারের মাছ ও মালামাল লুট করেছে। তবে, ৬টি ট্রলারসহ ৫৬ জেলেকে আটক করার পর মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে জেলেরা শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া ঘাটে অবস্থান করছেন।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা বাংলাদেশি জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে।”

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য আরাকান আর্মি গত বছরের নভেম্বর থেকে হামলা চালিয়ে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৩টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে সে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ সীমান্তের অধিকাংশ এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিল। বর্তমানে রাখাইনে বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা ও নৌবাহিনী অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *