
ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে বগুড়া–৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান। মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারচুপি ও ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে মাগুরা উপনির্বাচনের মতো আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান (সোহেল)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া পৌরসভার মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবিদুর রহমান বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষকে জেতানোর ষড়যন্ত্র করছেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের সিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আগেভাগেই ব্যালট পেপারে সিল ও স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাঁচবাড়িয়া কেন্দ্রে মব সৃষ্টি করে কেন্দ্র দখল করা হয়েছে, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ঠনঠনিয়া নূর আলা আল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটারদের হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নূর ইসলাম জানান, এজেন্টরা নিজেরাই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করেছেন এবং পরে আপত্তির কারণে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। বেলা দুইটা পর্যন্ত শহরের ১৩টি কেন্দ্র ঘুরে দেশী বার্তা পত্রিকার প্রতিবেদক দেখেন, ভোটার উপস্থিতি কম। অধিকাংশ কেন্দ্রে খুব কম ভোট পড়েছে। এদিকে মালতিনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে গোপন কক্ষের ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা দেখা গেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হয়ে পরবর্তীতে আসনটি ছেড়ে দেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।