ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে উড়িয়ে টাইগারদের ইতিহাস

২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে উড়িয়ে টাইগারদের ইতিহাস
ছবি- এএফপি

মিরপুর টেস্টের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছিল ১৫টি টেস্ট ম্যাচ। সেই লড়াইগুলোতে টাইগারদের জয় ছিল মাত্র দুটি, আর দুটিই আসে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে। এবার ইতিহাস গড়ে নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ।

২৬৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। ফলে বাংলাদেশ পায় ১০৪ রানের দারুণ এক জয়। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়ের স্বাদও পেল বাংলাদেশ।

২৬৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে মাত্র ২ রানে কট-বিহাইন্ড করিয়ে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল ৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেট হওয়া আজানকে ১৫ রানে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে হতাশ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মাত্র ২ রান করে নাহিদ রানার গতির শিকার হন তিনি। অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান আব্দুল্লাহ ফজল, তুলে নেন দৃঢ় এক ফিফটি। ৩১ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান, তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১৫২ রান।

বিরতির পরপরই বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। আম্পায়ার্স কলে আগে বেঁচে যাওয়া ফজলকে ৬৬ রানে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তার বিদায়ের পরই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। পরের ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন সালমান আলী।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে। সেই সময় পাকিস্তানের প্রতিরোধ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার বলেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ১৫ রানে বিদায় নেন সৌদ শাকিল। এরপর ১৪৭ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত ইন-সুইঙ্গারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করে পাকিস্তান শিবিরে বড় ধাক্কা দেন নাহিদ। পরে হাসান আলী ও নোমান আলিও দ্রুত ফিরে গেলে বাংলাদেশের জয় তখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

শেষ উইকেট হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দেন নাহিদ রানা। অপরপ্রান্তে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ইনিংসে ৪০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট অর্জন। এর আগে তার সেরা বোলিং ছিল ৬১ রানে ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট, আর মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার একটি।

এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। তখন ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত ছিলেন ৫৮ রানে এবং মুশফিকুর রহিম খেলছিলেন ১৬ রানে। পঞ্চম দিনে শান্ত করেন ৮৭ রান, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করে আউট হন। এবাদত হোসেন অপরাজিত থাকেন ৪ রানে। এছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ এবং মুমিনুল হক ৫৬ রান করেন।

পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলী ও নোমান আলি নেন দুটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৪১৩ রান, জবাবে পাকিস্তান করে ৩৮৬। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

মিরপুর টেস্টে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের শেষ ভরসাগুলোর একটি হাসান আলীকেও এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ৭ বল মোকাবিলা করে মাত্র ১ রান করেন তিনি। ফলে ম্যাচ এখন কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। জয়ের জন্য পাকিস্তানের এখনও প্রয়োজন ১১৪ রান, কিন্তু হাতে আছে মাত্র ২টি উইকেট।

এর আগে পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে আগুন ঝরানো বোলিং করেন নাহিদ রানা। তার গতির সামনে টিকতে পারেননি পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩২ বলে ১৫ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন শাকিল। এরপর ১৪৭ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত ইন-সুইংয়ে বোল্ড হন রিজওয়ান, যিনি ৪৫ বলে ১৫ রান করেছিলেন।

চা-বিরতির পরপরই আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। বিরতির পর প্রথম ওভারেই তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হন আব্দুল্লাহ ফজল। অনফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের রিভিউয়ে দেখা যায় বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে ৬৬ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় ফজলকে। তার বিদায়ে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ রানের জুটি।

তাইজুলের আঘাতের পরপরই সাফল্য পান তাসকিন আহমেদও। তার বলে আউটসাইড এজ হয়ে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান ইসলামের হাতে ধরা পড়েন সালমান আলী আগা। ৩৯ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন তিনি।

এর ফলে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। তখন জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১৩৭ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৫ উইকেট।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে বাংলাদেশ। চা-বিরতির সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৬ রান। ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল, আর তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সালমান আলী আগা (২১*)। চতুর্থ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটি পাকিস্তানকে কিছুটা আশা দেখাচ্ছিল।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

বিষয় :
 বাংলাদেশ-পাকিস্তান
 টেস্ট সিরিজ
 মিরপুর টেস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *