হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, মাটির নিচে চাপা পড়ছে সবুজ বাংলার ভবিষ্যৎ

৪৭

মোঃশামছুল হক শামীম সেনবাগ (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটা। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৬–১৭ বছরেও এত ব্যাপকভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা দেখা যায়নি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন ট্রাক, ট্রলি ও ভেকু দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে উর্বর মাটি। সেই মাটি যাচ্ছে ইটভাটা, ব্রিক ফিল্ড, নতুন বাড়িঘর নির্মাণ এবং খাল-বিল কিংবা নিচু জমি ভরাটের কাজে। এক সময় যেসব মাঠে সোনালী ধান দুলতো, আজ সেখানে তৈরি হচ্ছে বিশাল গর্ত। কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগ কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে ভয়াবহভাবে। কৃষকরা পড়ছেন দুশ্চিন্তায়, কারণ বছরের পর বছর চাষ করেও আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ কৃষিই এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, এভাবে ফসলি জমি ধ্বংস হতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, মাটি কাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য। কোথাও কোথাও জমি ধসে পড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক। বর্ষাকালে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, শুকনো মৌসুমে বাড়ছে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই অনেক স্থানে প্রকাশ্যে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। কিছু অসাধু চক্র রাতদিন অবাধে মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়। ফলে একদিকে কৃষিজমি হারাচ্ছে, অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ।
গ্রামবাংলার সেই সবুজ মাঠ, খাল-বিল আর শান্ত প্রকৃতি আজ ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বপ্নে গড়া সোনার বাংলার গ্রাম আজ যেন মাটিখেকোদের আগ্রাসনে বিপন্ন। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখবে বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠের ছবি। এখনই সময় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করার এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার। কারণ ফসলি জমি শুধু মাটি নয়, এটি আমাদের খাদ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, তাই প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *