দিল্লিতে আওয়ামীলীগের সেমিনারে , পুলিশের বাধায় বাতিল।

বিবিসি বাংলা

দিল্লিতে আওয়ামীলীগের সেমিনারে  , পুলিশের বাধায় বাতিল।
দিল্লিতে আওয়ামীলীগের সেমিনারে , পুলিশের বাধায় বাতিল।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেমিনারটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন আয়োজকরা। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) জানায়, দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে সেমিনার আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে।

এর আগে সেমিনারটি আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে এফসিসির এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় এবং সম্ভাব্য বক্তাদের নামসহ একটি লিফলেটও প্রকাশ করা হয়।

আয়োজকদের তালিকায় বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদের। এছাড়া মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

এফসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ বলেন, পুলিশ তাদের শুধু জানিয়েছে যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি বা ঠিক কী কারণে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।

এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোনো অনুষ্ঠানের কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেটি বাতিল করার ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।

সেমিনার বাতিলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে চলতি মাসের ৫ আগস্ট দিল্লিতে আরেকটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল এফসিসি। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও।

দিল্লি থেকে বিবিসির এক সংবাদদাতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে দিল্লি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকও প্রায় একই ধরনের মত দিয়েছেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান টানাপোড়েন আরও বেড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে একই ধরনের আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগ্রহী হয়নি বলে তারা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *