স্পোর্টস ডেক্স

ম্যাচ শেষে হতাশার চেয়ে আত্মতৃপ্তির সুরই বেশি শোনা গেছে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তার কণ্ঠে। সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ড্রেসিং রুমে এখন গভীর হতাশার আবহ। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার কষ্ট সবাই অনুভব করছে, বিশেষ করে যখন আমরা জয় থেকে খুব বেশি দূরে ছিলাম না। ছেলেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। তবে এই কঠিন মুহূর্তও আমাদের শেখার এবং এগিয়ে যাওয়ার পথেরই অংশ। আমি বিশ্বাস করি, এই অভিজ্ঞতা দলকে আরও পরিণত করবে এবং আবারও প্রমাণ করেছে, এই দলের মধ্যে অসাধারণ লড়াই করার মানসিকতা রয়েছে।’
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই কেপ ভার্দে নিজেদের সাহসী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলের পরিচয় দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে তিনটি ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। নকআউট পর্বেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত চাপে রেখে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় আফ্রিকার দলটি।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত বুবিস্তা বলেন, ‘এই দলটিকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। তারা অসাধারণ সাহস ও আত্মসম্মান নিয়ে লড়াই করেছে। আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে কেন তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। একই সঙ্গে আমার খেলোয়াড়রাও প্রমাণ করেছে, এমন বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুই গোল করা এবং ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া আমাদের মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতার প্রতিফলন। সবচেয়ে বড় বিষয়, তারা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে একবারও সরে যায়নি।’
বুবিস্তার মতে, কেপ ভার্দের এই বিশ্বকাপ অভিযান শুধু ফলাফলের গল্প নয়, বরং নিজেদের দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরারও একটি সুযোগ ছিল। সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘আমরা শুধু অংশগ্রহণের জন্য আসিনি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মানুষকে কেপ ভার্দেকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। পুরো আসরে আমরা ইতিবাচক মানসিকতায় ফুটবল খেলেছি এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। প্রতিটি ম্যাচে আমরা সততা, আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে লড়েছি। এই খেলোয়াড়রা প্রশংসার দাবিদার, কারণ তারা বিশ্বের সামনে দেখিয়েছে আমাদের ছোট্ট দেশটির আসল পরিচয় ও শক্তি।’