জলঢাকায় মীরগঞ্জ–দিয়াবাড়ি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতেও চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ

১৫

নীলফামারী প্রতিনিধি

জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ বাজার থেকে দিয়াবাড়ি বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের কাজ, কার্পেটিংয়ের রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা রেখেই কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্ধারিত সময়ের পরও রাত পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তার ধুলাবালু পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে ঘাস ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা রয়েছে
বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কার্পেটিংয়ের ৪০ মিলির জায়গায় ৩৫ মিলি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ে প্রায় ৪০মিলির কম দেওয়া হচ্ছে, এবং রাস্তায় নেই ফিনিশিং, এবং রাস্তার দুই পাশে যে হেমার দিয়ে দুই ধার বসানোর কথা, সেটা না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বালু দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে । এ অবস্থায় সড়কের কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সড়কটির কাজের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এবং কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলে আসতেছে,
এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরের পর মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতের জন্য সেটি মেকানিকের কাছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ছয়টা চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে এতে করো রাত নেমে আসে। তাঁদের আরও অভিযোগ, সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর রাস্তার ময়লা পরিষ্কারের জন্য তিনজন নারীকে দিয়ে ঝাড়ু দেওয়ানো হয় দ্রুতগতিতে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সহ সচেতন ব্যক্তিরা।
সড়ক নির্মাণে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কাজের গুণগত মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। এবং এ বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় নীলফামারী নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান বিকাল পাঁচটার পরে সন্ধা নেমে আসার আগেই শেষ করতে হবে কাজ, পরবর্তী কোন কাজ হয়ে থাকলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তবে এ বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলার প্রকৌশলী তারিকুজ্জামানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *