
রাজধানীর আলোচিত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যা মামলায় মোঃ রিজওয়ান উদ্দিন অভি (৩১) নামের আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই ২০২৫) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পটুয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাত আলী, এনডিসি।
তিনি জানান, গত ৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে সোহাগকে পাথর ছুঁড়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার খবর ৯৯৯ নম্বরে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চকবাজার থানাকে অবহিত করা হয় এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, ‘চাঁদাবাজদের জায়গা নাই, ব্যবসায়ীদের ভয় নাই’— এমন স্লোগান দিয়ে একদল লোক উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে মাহমুদুল হাসান মহিন ও রবিন নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
এরপর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি পাথর নিক্ষেপকারী একজনকে শনাক্ত করা গেলেও তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এরপর পটুয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে মোঃ রিজওয়ান উদ্দিন অভিকে গ্রেফতার করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে কমিশনার বলেন, যে এজাহার কপি ভাইরাল হয়েছে, তা মূলত ভিকটিমের সাবেক স্ত্রী ও সৎভাই কর্তৃক প্রস্তুত করা একটি খসড়া, যেখানে ২৩ জনের নাম ছিল। পরে নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম মামলা দায়ের করেন এবং পাঁচজনের নাম বাদ দিয়ে এক নতুন নাম যুক্ত করে মোট ১৯ জনকে আসামি করেন। এই ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা হচ্ছে।