
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে বহু তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শহিদ হয়েছেন। অনেকেই হাত-পা বা চোখ হারিয়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের ত্যাগকে স্মরণ রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষের অধিকার কখনো ক্ষুন্ন হবে না।
আজ উপদেষ্টা ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলে নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন এবং এসএসসি ২০২৫ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, বেগম রোকেয়া মুসলিম মেয়েদের জন্য স্বাধীন পরিবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে শুধু পড়ালেখা নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও হয়। তিনি বলেন, “শুধু বইয়ের মাধ্যমে সবকিছু জানা সম্ভব নয়। ইতিহাস বারবার বিকৃত হয়েছে। শিক্ষকদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে দেশ ও জাতি সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলা।”
তিনি আরও বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। ইভটিজিংয়ের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
পরিবেশ সুরক্ষার জন্য উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন স্কুল ও এলাকার পরিবেশ রক্ষায় কার্যক্রম চালাতে হবে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে, কারণ এগুলো মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে মানুষ মাথাপিছু গড়ে মাত্র ২০০ গ্রাম মাংস খেতে পারছে। অনেক পরিবার সপ্তাহে বা মাসে একদিন মাংস গ্রহণ করছে। দৈনিক প্রায় ৬ কোটি ডিম উৎপাদন হলেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছে। তিনি বলেন, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম আমাদের পুষ্টির মূল উৎস। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়েও সচেতন হতে হবে।
উপদেষ্টা নারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতন আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং নতুন ছয়তলা ভবনের উদ্বোধন করা হয়।