লাদাখে ‘জেন-জি বিপ্লব’, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪

লাদাখে ‘জেন-জি বিপ্লব’, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪

ভারতের উচ্চতম পর্বতমালা হিমালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লাদাখে গতকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সহিংস বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম, যাকে স্থানীয় একজন শিক্ষাবিদ ‘জেন-জি বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। লাদাখের জনগণ তাদের অঞ্চলের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা ও পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দাবি করছেন।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেন সহিংস হলো?

লাদাখ অঞ্চলটি ২০১৯ সাল থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা সরাসরি শাসিত হচ্ছে, কিন্তু এখানে জনগণের নির্বাচিত কোনো স্থানীয় সরকার নেই। এর প্রতিবাদে গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় নেতারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও অনশন করে আসছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া না পাওয়ায় যুবকরা চরম হতাশ হয়ে ওঠে। তাদের মনে এই ধারণা জন্মে যে “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কাজ করছে না”। এই হতাশা থেকেই যুবকদের একটি দল বিজেপি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ে আগুন দেয় এবং লেহ-এর রাজপথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি কী?

লাদাখের মানুষের মূল ক্ষোভ হলো—তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রধান দাবি দুটি, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা জরুরি:

১. ষষ্ঠ তফসিলের বিশেষ মর্যাদা: লাদাখের ৯০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তারা চায় লাদাখকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল (Sixth Schedule) এর অধীনে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হোক। এই মর্যাদা পেলে তাদের অঞ্চলটি স্বায়ত্তশাসন পাবে এবং তাদের ভূমি ও সংস্কৃতি রক্ষা করার আইনি ক্ষমতা নিশ্চিত হবে। এটি এক ধরনের বিশেষ সুরক্ষিত অঞ্চলের মর্যাদা, যা স্থানীয় জনগণের শাসন নিশ্চিত করে।

২. পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও লাদাখে বিধানসভা না থাকায় স্থানীয় শাসনের সব ক্ষমতা চলে গেছে দিল্লিতে নিযুক্ত আমলাদের হাতে। লাদাখবাসীরা চায় তাদের নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকুক, যাতে তারা নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ও কাজের সুযোগ না থাকার হতাশা থেকেই এই সহিংসতা জন্ম নিয়েছে।

লাদাখের কৌশলগত গুরুত্ব

লাদাখ ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। এর সীমান্ত চীনের সঙ্গে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০২০ সালে এই অঞ্চলে ভারত ও চীনের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় জনগণের এই গভীর অসন্তোষ এখন ভারতের জন্য চীন সীমান্তের পাশাপাশি নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *