
প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর জামালপুরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা বাস মালিক সমিতি।
আজ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক হাসিনা বেগমের আহ্বানে জামালপুরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো. আবদুস সোবহান এবং জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বাস শ্রমিকদের মারধর করেছেন—এমন অভিযোগে সোমবার বিকেল চারটার দিকে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশাও বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে জামালপুর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন।

জামালপুরে ২৯ ঘণ্টা পর বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রাতে জেলা প্রশাসকের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক হাসিনা বেগমের নেতৃত্বে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো. আবদুস সোবহান এবং জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
সূত্র জানিয়েছে, আজ বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, তবে কোন সমাধান না হওয়ায় রাতে নতুন করে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারে সম্মত হন। প্রশাসন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। একই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে জেলা শাখার বাস সার্ভিস সংস্কারের ছয় দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এদিকে, জামালপুর সদর উপজেলায় গত রোববার রাজীব পরিবহনের বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের এক যাত্রী নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই দিনই জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহনশ্রমিকরা। বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রতিবাদ এবং বাস সার্ভিস সংস্কারের দাবিতে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবরোধের সময় পরিবহনশ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেল চারটা থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট ডেকে দেয়।
আজ রাত সাড়ে নয়টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, “বৈঠকে উভয় পক্ষ আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছেছে। এরপর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।”