
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া দুই কলম্বিয়ান নাগরিককে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করার পর ইসরায়েলের পুরো কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। বৃহস্পতিবার হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আটক হওয়া মানুয়েলা বেদোয়া ও লুনা বারেতো ছিলেন ফ্লোটিলার ক্রু। গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজার এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপকূল থেকে ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছানোর পর ইসরায়েলি সেনারা বেআইনিভাবে তাদের আটক করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগের ফ্লোটিলাগুলোও একই ধরনের হামলা ও আটকের শিকার হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।
পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সতর্ক করে বলেন, যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে এটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হচ্ছে। এর আগে তিনি চুক্তি স্থগিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
চলতি বছরের মে মাসেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন পেত্রো। এবার তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বাকি থাকা যেকোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে দ্রুত কলম্বিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলা করবে, যার মধ্যে ইসরায়েলি আদালতেও মামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের কলম্বিয়ার আইনজীবী দলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে পেত্রো গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইসরায়েলিদের ‘নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে এশিয়ার দেশগুলোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠন করা উচিত। একই সঙ্গে ইসরায়েলে অস্ত্রবাহী জাহাজ পাঠানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।
পেত্রো তার ভাষণে বলেন, “কোনো জাতিই শ্রেষ্ঠ নয়। ঈশ্বরের মনোনীত জাতি বলেও কিছু নেই। সেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—যে জাতিই হোক না কেন। কেবল অজ্ঞ ও ধর্মান্ধরা এমনটা ভাবতে পারে। আসলে ঈশ্বরের মনোনীত জাতি হলো পুরো মানবজাতি।”