জেলা প্রতিনিধি, দেশী বার্তা, কুষ্টিয়া।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “পূর্বের জেলা প্রশাসককে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বদলি করিয়েছি। কারণ সরকার আমাদের। তিনি এমন আচরণ করবেন তা ধারণা করিনি; আগে বুঝতে পারলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রুমী তার বক্তব্যে দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলে তিনি এক লাখ ভোটের বেশি ব্যবধানে জয়ী হতেন। কিন্তু প্রশাসনের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ ব্যক্তি এবং নিজের দলের কয়েকজন নেতার কারণে তিনি প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তার মতে, তিনি মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনসহ কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার প্রশাসনের কিছু সদস্য তার বিপক্ষে কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এবং আগামী ২৪ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে বলে জানান।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুক্রবার রাতে রুমী বলেন, “আমি যা বলেছি, সেটাই সত্য। কে কীভাবে নিল, তা আমার বিবেচ্য নয়।”
এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যান্যরা।
ঘটনাটি ঘিরে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।