সরকারের অর্থে বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ শুরু রবিবার

সরকারের অর্থে বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ শুরু রবিবার
“বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪ লে-অফ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে সরকার হস্তান্তর করেছে। আজ বৃহস্পতিবার, শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওসমান কায়সার চৌধুরীর কাছে এ চেক হস্তান্তর করেন। সরকারের দেওয়া এই ঋণ থেকে বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা আগামী রোববার থেকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ শুরু হবে। বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি লে-অফ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩১ হাজার ৬৭৯ জন, এবং কর্মচারী ১ হাজার ৫৬৫ জন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ চেক হস্তান্তর করা হয়, জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।”

“২৭ ফেব্রুয়ারির বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থের জোগান দেওয়া হবে। পাওনাবাবদ মোট অর্থের মধ্যে ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং ২০০ কোটি টাকা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হবে। আজ, সেই অনুযায়ী, কোম্পানি কর্তৃপক্ষের হাতে পাওনা অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৩ আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এরপর ২৯ আগস্ট তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একইভাবে, খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠানটির ঋণপত্র বা এলসি সুবিধাও বন্ধ করে দেয়, যা বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন বন্ধ হতে সহায়তা করে। কাঁচামালের সংকটে ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।”

“উপদেষ্টা কমিটি প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বেক্সিমকো গ্রুপের উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে শেয়ার বিক্রিতে জটিলতা দেখা দিলে কমিটি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং শেষে সিদ্ধান্ত হয় সরকারের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এর আগে, বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ ১৪টি প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করে এবং প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে।

বেক্সিমকো গ্রুপের দেনা-পাওনা সম্পর্কিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ বিশাল। জনতা ব্যাংকের ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৪২৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ৪২০ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৯৮৭ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩১৫ কোটি, ইউসিবির ৩৩৩ কোটি, এবি ব্যাংকের ৯৩৮ কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ৪৯৭ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৬১ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৯৪ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ৭৮ কোটি এবং বিআইএফএফএলের ৮৭ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়া, বেক্সিমকো গ্রুপের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ২৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। এই ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ৪ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার সম্পদ বন্ধক রাখা হয়েছে, যা মোট ঋণের মাত্র ১৭.২৪ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য, বেক্সিমকো গ্রুপ যেসব কোম্পানির নামে ঋণ নিয়েছে, তার মধ্যে ১২টি কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব কোম্পানির নামে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যা জনতা ব্যাংক প্রদান করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *