
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি থাকলেও ছাত্রদল তাদের ঘোষিত হল কমিটিগুলো চালু রাখবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সাইবার বুলিং, গুপ্ত রাজনীতি ও অপসংস্কৃতি সৃষ্টি করছে কারা—তা তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ছাত্রদলের হল কমিটিগুলো বহাল থাকবে।
এর আগে, ৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল শাখায় নতুন কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। একইদিন রাতে হলে রাজনৈতিক কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে কিছু শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সমাবেশ করে।
বিক্ষোভের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং প্রতিটি হল প্রশাসন নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
রাকিব অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরও গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে হলগুলো দখলের চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুপ্ত রাজনীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার জন্য গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির সুপারিশ প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন—কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলেয়া বেগম এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভুঁইয়া।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিটি দ্রুততম সময়ে ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রস্তাব করবে এবং প্রয়োজনে আরও তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।