
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের সরকারি দেহরক্ষীদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ।
ট্রাম্প একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও জো বাইডেনের মেয়ে অ্যাশলি বাইডেনের ক্ষেত্রেও।
ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘হান্টার বাইডেনের নিরাপত্তায় ১৮ জনের বেশি এজেন্ট নিযুক্ত। এটি একেবারেই “হাস্যকর”।’
ট্রাম্প জানিয়েছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের মধ্যেই হান্টার বাইডেন দেশটিতে ছুটি কাটিয়েছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘দয়া করে জেনে রাখুন, খুব শিগগিরই হান্টার বাইডেন আর সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা পাবেন না। একইভাবে অ্যাশলি বাইডেনের জন্য নিযুক্ত ১৩ জন এজেন্টকেও প্রত্যাহার করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের স্ত্রীদের জন্য সুরক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে তাঁদের সন্তানদের বয়স ১৬ বছরের কম হলে তবেই সুরক্ষা পাওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্টদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, ক্ষমতা ছাড়ার পর অনেকেই তাঁদের সন্তানদের জন্য সরকারি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নেন।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, হান্টার ও অ্যাশলি বাইডেনের সুরক্ষা বাতিলের বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।
হান্টার বাইডেন দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। জানুয়ারিতে ক্ষমতা ছাড়ার কিছু আগে, জো বাইডেন তাঁর ছেলের বন্দুক ও কর-সংক্রান্ত অপরাধ ক্ষমা করেন, যা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
গতকাল সোমবার, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বাইডেনের দেওয়া সেই ক্ষমা বাতিল করতে যাচ্ছেন। তবে, তাঁর এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি অস্পষ্ট এবং এটি নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।