
চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের পরিবার এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার বাবা শফিউল আলম ছেলের মৃত্যুর পরই সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে প্রতিদিনই তিনি ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন, দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে স্মৃতিতে ভরা সেই নিরবতায়।
ওয়াসিমের মা জ্যোৎস্না বেগম এখনও বিশ্বাস করতে চান না যে তার ছেলে আর ফিরে আসবে না। প্রতিটি মুহূর্তে ছেলের স্মৃতি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মাঝরাতে জেগে উঠে ছেলের নাম ধরে কাঁদেন তিনি। ওয়াসিমের ব্যবহৃত জিনিসগুলো আগের মতোই ঘরে রয়ে গেছে, যেন সে এখনো বেঁচে আছে।
ওয়াসিম কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং চট্টগ্রাম কলেজের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ওয়াসিম ছিলেন তৃতীয়।
ওয়াসিমের বাবা জানান, তার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে—এই ভাবনাই তাকে একদিকে গর্বিত করে, অন্যদিকে কষ্টে ভরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “পরে যদি কোথাও কেউ ওয়াসিমের সাহসের কথা বলেন, মনে হয় সে বৃথা মরেনি। তবে সত্যিটা হলো—আমার ছেলেকে আর ফিরে পাবো না।”
তিনি দাবি করেন, ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের মধ্যে একজন রাশেদ নামের যুবক সরাসরি জড়িত। শুধু মাঠের ঘাতকরাই নয়, যারা পরিকল্পনা করেছে, নির্দেশ দিয়েছে—সবাই যেন বিচারের আওতায় আসে, এই দাবি তার।
ওয়াসিমের মা এখন অসুস্থ। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই নানা রোগে ভুগছেন তিনি। শোক আর হতাশায় বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঈদের দিন বাড়ির ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে নামাজে গেলে ছেলের কথা ভেবে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন—সেই কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার।
বাবা শফিউল আলম জানান, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় প্রায় ১৪-১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে তার দাবি, “অর্থ নয়, একজন শহীদের বাবা-মা হিসেবে আমরা যেন প্রাপ্য সম্মানটা পাই, সেটাই সবার কাছে প্রত্যাশা।”