দেশীবার্তা অনলাইন

রাজধানীর মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে উসকানি দেওয়া, সহিংসতা ছড়ানো এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত এই বোর্ডে সরকার, পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট তিন পক্ষের মতামত ও আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পদে হামলা, অগ্নিসংযোগ কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁরা মিরপুর এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি মহল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
রোববার মিরপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোরেলের মিরপুর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়। এর ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং কর্মজীবী মানুষসহ হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।