পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন.

২৯
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে বঙ্গভবনে ওঠার পর মো. সাহাবুদ্দিন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা শুরু থেকেই তাঁকে পদ ছাড়ার আহ্বান জানান। এ দাবির অংশ হিসেবে একপর্যায়ে বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়।

যদিও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এ সময় তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নতুন সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সম্মানিত স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।

বিষয়: রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ।

শ্রদ্ধেয় মহোদয়,

আসসালামু আলাইকুম।

আমি মো. সাহাবুদ্দিন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। দায়িত্ব পালনকালে আমি সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সরকারের পতনের ফলে দেশে একটি শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের উদ্ভব হয়। সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত প্রার্থনা করি। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।

আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট সময়ে গৃহীত সাংবিধানিক পদক্ষেপ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে দেশে কোনো সাংবিধানিক অচলাবস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক সংকট সৃষ্টি হয়নি।

আমি বর্তমানে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনিসংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসা নিচ্ছি। এর আগে আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ।রোগ ধরা পড়েছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে আমি সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

এসব শারীরিক জটিলতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি সুস্থতার জন্য আমাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।

ধন্যবাদান্তে,

মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *