জামায়াতের বহিষ্কৃত সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের

৩৩

দেশীবার্তা অনলাইন

জামায়াতের বহিষ্কৃত সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, ছবি: এমপির ফেসবুক থেকে নেওয়া

রাজধানীর পল্লবী থানায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান মামলাটি করেন। ওবায়দুর রহমানের দাবি, সংসদ সদস্য যাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তিনি তাঁর মামা।

মামলার এজাহারে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁকে সন্দেহ করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পাশাপাশি আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোস্তাসিম বিল্লাহ (২৫) এবং রাকিবুল হাসান (৩০)-কেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম আসামি আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তাঁর বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। আত্মীয়তার কারণে নজরুল ইসলামের বাসায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ওবায়দুর রহমানের ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং নজরুল ইসলামকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। এর জেরে নজরুল ইসলাম তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি মগবাজারভিত্তিক একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানই গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এই সন্দেহের জেরেই গত ১৪ জুলাই তাঁর নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন সকাল প্রায় ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে তাঁকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিদের সহায়তায় লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাঁকে মেঝেতে ফেলে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীমের চিৎকারে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

ভিডিওগুলো প্রকাশের পর জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে পরদিন মঙ্গলবার গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাঁর দাবি, গত ১৭ জুন ঢাকায় মরিয়ম বেগমের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাসায় পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। বুধবার অনুষ্ঠিত দলটির নির্বাহী পরিষদের সভায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানায়, ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *