সংসদ রিপোর্টার, দেশী বার্তা।

বাজেট অধিবেশনে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিলের কপি আগে থেকে সরবরাহ না করার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রোববার অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে তারা প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে।
সেদিন বাজেটের ওপর আলোচনায় শেষ বক্তা ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে দুটি সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি হলো ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’ এবং ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্স) (সংশোধন) বিল’।
বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিল দুটি সংসদে উত্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা বিল উপস্থাপনের বিষয়ে আপত্তি জানান। জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, নির্ধারিত সময়ের ব্যত্যয় হওয়ায় তিনি তা মার্জনা করেছেন। পরে বিল দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
এরপর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান। তবে ডেপুটি স্পিকার জানান, ওই মুহূর্তে পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করা সম্ভব নয়, কারণ কার্যসূচিতে ৩০০ বিধির আওতায় একটি বিবৃতি রয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সেই বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনাদের জন্য সুখবর রয়েছে।’ জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আগে বিবৃতিটি শেষ হোক, তারপর। আপনারা এত অধৈর্য হবেন না।’ এরই মধ্যে বিরোধী দলের সদস্যদের ‘ওয়াকআউট করছি’ বলতে শোনা যায় এবং তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তিনি পরদিন এ বিষয়ে বিবৃতি দেবেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন।
সংসদ কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলকে তুলনামূলক কম সময় দেওয়া, সরকারি দলের জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রাখা, বিলের কপি আগাম সরবরাহ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে তারা ওয়াকআউট করেছেন।