ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা:

৩৪
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসদৃশ বস্তু নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি।
Attack on Nasiruddin Patwari in Jhenaidah

হামলার সময় আকাশি গেঞ্জি পরা আশিক নামে এক তরুণকে পকেট থেকে বস্তু বের করতে দেখা যায়; পরে অন্য একজনের বাধায় সেটি আবার পকেটে রেখে দেন। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত।

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে আকাশি রঙের গেঞ্জি পরা এক তরুণকে পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু বের করতে দেখা যায়। পরে ওই তরুণের পরিচয় শনাক্ত করা হয় আশিক মণ্ডল হিসেবে। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে, ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে। নামাজ শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ। এ সময় হঠাৎ হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশি গেঞ্জি পরা ১৫ থেকে ২০ জন তরুণকে সেখানে সক্রিয় দেখা যায়। হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে আশিক মণ্ডল পকেট থেকে একটি বস্তু বের করে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। পরে পাঞ্জাবি পরা আরেক ব্যক্তি তাঁকে থামালে তিনি সেটি আবার পকেটে রেখে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দেশিবার্তাকে জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মসজিদে প্রবেশের সময় থেকেই আকাশি গেঞ্জি পরা কয়েকজন তরুণ তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। সংঘর্ষের সময়ও তাঁদের তৎপরতা বেশি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিক মণ্ডলের পরিবার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তবে আশিক নিজে আগে সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, আশিক একটি “গুপ্ত সংগঠনের” সদস্য এবং তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে মহড়া দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত। অন্যদিকে এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ দাবি করেন, আকাশি গেঞ্জি পরা তরুণরা এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। আশিকের হাতে যে বস্তু দেখা গেছে, সেটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং নিরাপত্তার জন্য রাখা একটি “চায়না স্টিক”। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার প্রতিবাদে রাতেই শহরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এদিকে জেলা বিএনপির নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোকুল চন্দ্র জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *