চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

অভিযানের সময় এক ব্যক্তি র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। র্যাবের দাবি, মাইকে ঘোষণা দিয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী এই হামলায় অংশ নেয়। এতে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার (—) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত তিন সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। র্যাব-৭ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিপুলসংখ্যক দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। র্যাব জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর সমকালকে জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় র্যাব মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মামলা না হলেও দুপুরের পর মামলা হতে পারে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র বাহিনী। এলাকাবাসীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানা গেছে। অতীতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দুটি শক্তিশালী সংগঠন। একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা যায়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, এই দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। দখলকৃত পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে সক্রিয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠন দুটি এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেগ পেতে হচ্ছে।