দেশী বার্তা প্রতিনিধি, ঢাবি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএ’র আত্মপ্রকাশ. ছবি : দেশী বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’ আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে এনপিএর তিনজন মুখপাত্র এবং ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নাম ঘোষণা করা হয়। মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফেরদৌস আরা রুমী, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী নাজিফা জান্নাত। কাউন্সিল সদস্য মীর হুযাইফা আল মামদূহ মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নাম ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা চার নেতাও রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, সাবেক কালচারাল সেলের উপপ্রধান সৈয়দা নীলিমা দোলা এবং সাবেক সদস্য সৈয়দ ইমতিয়াজ নদভী। এছাড়া কাউন্সিলে রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অলিউর সান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক নূমান আহমাদ চৌধুরী, রাফসান আহমেদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতারা। নাম ঘোষণার পর এনপিএর তিন মুখপাত্র প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এ সময় পাঁচটি মূলনীতি ঘোষণা করা হয়—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। এটি শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের দাবি নয়, বরং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। তবে দেড় বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও বাস্তবতা হতাশাজনক হয়ে উঠেছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিসরের স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এছাড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বর্তমানে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাষা ও চর্চা পুনরুত্থান পাচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হচ্ছে।

ধর্মীয়, জাতিগত ও লৈঙ্গিক সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবিচারমূলক আচরণ প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেই দৃশ্যমান। অভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উগ্র গোষ্ঠীর হামলায় নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণের লক্ষ্যেই এনপিএর যাত্রা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ। শেষ পর্যায়ে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনপিএর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, লেখক আলতাফ পারভেজ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেত্রী সীমা দত্ত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বখতিয়ার আহমেদ, শিল্পী অমল আকাশ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদারুল ভূঁইয়া, কবি জাহিদ জগৎসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।