নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজন নিহত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ফটক

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনকে গুলি করে এবং হাত–পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত দুজন হলেন দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা সালেহ আহমেদ (৬০) এবং তাঁর ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন ওরফে নয়ন (৪০)। তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য প্রয়াত ছালেহ আহম্মদের গোষ্ঠীর সদস্য। নিহতদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠী ও খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে গত বছরের ২৫ জুলাই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ছররা গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। সে সময় এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার পর গত বছরের ৩ আগস্ট সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। আলাউদ্দিন হত্যার পর ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তাঁরা এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয় পক্ষকে একাধিকবার শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর সদস্যরা ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর হামলা ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই সালেহ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেন নিহত হন। নিহত দেলোয়ার হোসেনের বোন হাজেরা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আলাউদ্দিন মেম্বার হত্যার পর ওই গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। কয়েক দিন আগে আমরা বাড়িতে ফিরে তাঁবু টানিয়ে থাকতে শুরু করি। আজ দুপুরে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলেসহ দুই শতাধিক সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার ভাই ও চাচাকে গুলি করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।’ এ বিষয়ে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর সদস্যদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শুক্রবার দুপুরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। নিহতদের শরীরে গুলির আঘাত এবং হাত–পায়ের রগ কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা ঘটনার পর এলাকা থেকে পলাতক রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের ওপর ছররা গুলি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হাত ও পায়ের রগ কাটার আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *