বেহেশতের টিকিট’ বিতর্কে রণক্ষেত্র ভোলা, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৩০ আহত

দেশী বার্তা প্রতিনিধি | ভোলা

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে গতকাল রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব মুহা. নিজামুল হক। ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (গতকাল) রাত আটটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘর্ষে আহত ৯ থেকে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রায়চাঁদবাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নৌবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলার চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনার পর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিডিপি মহাসচিব মুহা. নিজামুল হক সংঘর্ষের জন্য বিএনপি কর্মীদের দায়ী করেন। তাঁর দাবি, বিএনপির হামলায় জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াত নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষে বিএনপির ১৫–১৬ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটির জেরেই সংঘর্ষ হয়। ইট নিক্ষেপে অন্তত ৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *