সুনিতা উইলিয়ামস কে, কীভাবে নভোচারী হয়ে উঠলেন তিনি

সুনিতা উইলিয়ামস কে, কীভাবে নভোচারী হয়ে উঠলেন তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ফাইল ছবি: এএফপি

অবশেষে শেষ হয়েছে অপেক্ষার প্রহর। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল থেকে ৫০ মাইল দূরে সমুদ্রে অবতরণ করেছে নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরকে বহনকারী ক্যাপসুল। মহাকাশ স্টেশনে প্রায় ৯ মাস আটকা থাকার পর তারা নিরাপদে ফিরে এসেছেন।

সুনিতা উইলিয়ামস কে? কীভাবে তিনি মহাকাশচারী হলেন? চলুন, তাঁর সম্পর্কে কিছু জানি।

সুনিতা উইলিয়ামসের জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইউক্লিড শহরে। এখন পর্যন্ত তিনি তিনবার মহাকাশ স্টেশনে ভ্রমণ করেছেন।

১৯৮৩ সালে সুনিতা উইলিয়ামস যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপোলিসে নেভাল একাডেমিতে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে তিনি র‍্যাংক অর্জন করেন এবং নৌ বিমান চলাচল প্রশিক্ষণ কমান্ডে বিমানচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে তিনি জঙ্গি হেলিকপ্টার চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ইরাকের কুর্দি অঞ্চলগুলোতে নো-ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠার কাজে সহায়তা করতে তিনি হেলিকপ্টার চালিয়েছিলেন। এছাড়া, ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে হ্যারিকেন অ্যান্ড্রু আঘাত হানার পর উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমেও তিনি অংশ নেন।

১৯৯৩ সালে সুনিতা নেভাল টেস্ট পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরে টেস্ট পাইলট প্রশিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি ৩০টিরও বেশি ধরনের উড়োজাহাজ চালানোর দক্ষতা অর্জন করেন এবং ২,৭৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে কাটান। মহাকাশ কর্মসূচির নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি ইউএসএস সাইপান যুদ্ধজাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মহাকাশযাত্রা

সুনিতা উইলিয়ামস ১৯৯৫ সালে ফ্লোরিডার মেলবোর্নে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে তিনি নভোচারী প্রশিক্ষণ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে সুনিতা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে যান এবং রোবোটিকস ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) পরিচালনার প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি রাশিয়ান ফেডারেল স্পেস এজেন্সির সঙ্গে কাজ করেন এবং আইএসএস অভিযানের জন্য ক্রু হিসেবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর, মহাকাশযান ডিসকভারিতে করে সুনিতা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) যান। সেখানে তিনি এক্সপেডিশন ১৪ ও ১৫-এ ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই মিশনের সময় তিনি চারবার মহাকাশে হেঁটেছিলেন এবং মোট ২৯ ঘণ্টার বেশি সময় মহাকাশযানের বাইরে কাটিয়েছিলেন। মহাকাশে তিনি ১৯৫ দিনেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেন এবং প্রথম নারী হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গড়েন।

কল্পনা চাওলার পর, সুনিতা উইলিয়ামস হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী, যিনি মহাকাশে গিয়েছেন। কল্পনা চাওলা মহাকাশ মিশন শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন।

২০১২ সালের ১৫ জুলাই, সুনিতা সয়ুজ টিএমএ–০৫এম-এ চড়ে আবারও আইএসএস-এ যান। এক্সপেডিশন ৩২-এ তিনি ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর এক্সপেডিশন ৩২-এর কমান্ডার হন।

এই মিশনে তিনি তিনবার মহাকাশে হাঁটেন, যা মোট ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। দুটি ফ্লাইট মিলিয়ে তিনি ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় আইএসএসের বাইরে মহাকাশে কাটিয়েছেন।

১২৭ দিন মহাকাশে থাকার পর ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাঁর দুটি মহাকাশ মিশনে মোট ৩২১ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

২০২২ সালে সুনিতা উইলিয়ামসকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) প্রথম পরীক্ষামূলক ক্রু মিশন স্টারলাইনার ফ্লাইটের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ জুন ওই মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনটিতে বেরি উইলমোর কমান্ডার হিসেবে এবং সুনিতা পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মিশন শুরুর পরদিনই স্টারলাইনার মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে যায়। তাদের এক সপ্তাহ থাকার কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতার কারণে তাঁরা সেখানে প্রায় ৯ মাস আটকে পড়েন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, গতকাল সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *