বিগত সরকারের ঋণ পরিশোধে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

বিগত সরকারের ঋণ পরিশোধে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
বিগত সরকারের ঋণ পরিশোধে বর্তমান সরকারের বড় অঙ্কের ব্যয় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে বিগত সরকারের নেওয়া ঋণের দায় বর্তমান সরকারের কাঁধে পড়েছে। জানা গেছে, পূর্ববর্তী সরকার বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে। ফলে বর্তমান সরকারকে নতুন ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতিতে এগোলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যয় কিছুটা সীমিত রাখতে হয়েছে। তবু ঋণের বোঝা কমাতে নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন করে মুদ্রা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার পথে হাঁটেনি সরকার। বরং আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধেই মনোযোগ দিচ্ছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে সরকারের ঋণ পরিশোধের তথ্য

রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের নেওয়া ঋণের বোঝা বহন করছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার এখন বেশির ভাগ ঋণ নিচ্ছে বন্ড ও ট্রেজারি বিল বিক্রির মাধ্যমে। আগের মতো সরাসরি ব্যাংক থেকে ঋণ না নেওয়ায় তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি। বরং আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করায় ব্যাংক খাতে তারল্যের জোগান বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৫৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় ঋণ গ্রহণ করেছিল। বর্তমান সরকার নতুন করে ছাপানো টাকায় কোনো ঋণ নেয়নি। তবে লুটপাটের কারণে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর সহায়তায় ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের ঋণের পরিমাণ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাত থেকে সরকার মোট ৬১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে, ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দুটি খাতে মিলিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার পর, সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় অনেক কম।

ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের মোট স্থিতি ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতির উন্নতির একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *