ডিমলা প্রতিনিধি: শাফিনুর রহমান

নীলফামারীর ডিমলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫৫২টি তালবীজ রোপণ করেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়।

‘গাছ লাগিয়ে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ডালিয়া-ডিমলা সড়কের পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়কের উভয় পাশে একযোগে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা।

জেলা কমান্ড্যান্ট, নীলফামারীর নির্দেশনায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন উপজেলা প্রশিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান ও উপজেলা প্রশিক্ষিকা মোছাঃ নুরতাজ খাতুন।

কর্মসূচিতে ৮০ জন ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় নারী ও পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

এ সময় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন এবং উপজেলা প্রশিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান তালগাছের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোপণ করা তালবীজের নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তালবীজ রোপণ

কর্মসূচির আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপণের আগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিপক্ক মাতৃগাছের সতেজ ও নিরোগ তালবীজ সংগ্রহ করা হয়। পরে বীজগুলো দুই সপ্তাহ ছায়াযুক্ত স্থানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়।

সংরক্ষণকালে পানিতে ওষুধ মিশিয়ে বীজগুলো ছত্রাকমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট নিয়মে প্রায় ৩ মিটার পরপর ৩০×৩০×৩০ সেন্টিমিটার মাপের গর্ত তৈরি করে তালবীজ রোপণ করা হয়।

রোপণের পর হালকা সেচ দেওয়া হয় এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে কচুরিপানা দিয়ে মালচিং করা হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে এসব তালগাছ ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।