জেলা প্রতিনিধি | আব্দুল হালিম নীলফামার

কলাবাড়ি মোড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, কমল দুর্ঘটনার ঝুঁকি
রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। তবে মহাসড়কের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত ‘কলাবাড়ি মোড়’ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে আসছিল।
রংপুর থেকে লালমনিরহাটের দিকে যাওয়ার পথে প্রায় ১৩৫ ডিগ্রি কোণে বাঁক নেওয়া এই মোড়টি এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর মোড়ের দুই পাশে ঘন জঙ্গল ও ঝোপঝাড় থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দূর থেকে দেখা যেত না। ফলে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে চালকদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যেত।
এ কারণে এ এলাকায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। সন্তান হারিয়ে মায়ের কোল যেমন খালি হয়েছে, তেমনি স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে।
দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও সম্প্রতি এর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. নাসিম হাসানের সার্বিক নির্দেশনা ও নেতৃত্বে রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়কের কলাবাড়ি মোড়ের বিপজ্জনক জঙ্গল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশিক্ষক মো. নুরুজ্জামান শাহিন এবং উপজেলা প্রশিক্ষিকা জান্নাত আরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় ১০০ জন ভাতাভোগী ও ভিডিপি সদস্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
জঙ্গল ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করায় কলাবাড়ি মোড়ের দীর্ঘদিনের ‘ব্লাইন্ড স্পট’ অনেকাংশে দূর হয়েছে। এখন চালকরা তুলনামূলক দূর থেকেই বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে পারছেন। ফলে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটি অতিক্রম করা সহজ হচ্ছে এবং সড়কে চলাচলের ঝুঁকিও কমেছে।
এ উদ্যোগের ফলে চালক, যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
তাদের মতে, শুধু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।