দেশী বার্তা অনলাইন।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নওগাঁর ১০ জনের মধ্যে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার ও রুবেল রয়েছেন। এছাড়া বিশা এলাকার সাগর, মজিদুল, দুবাই এলাকার শুভ, সুমন, পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। আকস্মিক আগুনে তারা প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক।
এ ঘটনায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং আগুন লাগার সময় কারখানাটিতে কতজন শ্রমিক ছিলেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন রয়েছেন। তবে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের সবাই বাংলাদেশি বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
নিহত বাংলাদেশিরা জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে তারা ওই সোফা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নাটোরের নিহত তিনজন হলেন—নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের শামীম হোসেন, শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল আউয়াল।
অন্যদিকে নওগাঁর নিহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কলি (৩০), লুৎফর (৩২), জান্ডার ও রুবেল। এছাড়া বিশা এলাকার সাগর, মজিদুল, দুবাই এলাকার শুভ, সুমন, পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের রিয়াদ কার্যালয়ের লেবার কাউন্সেলর মো. রেজা রাব্বির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এসব শ্রমিক। আগুনে তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেক পরিবারের সদস্য এখনো প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি দিতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।