
বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ভোজশালায় একসময় সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ও দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, “এই স্থানে হিন্দুদের উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে প্রতীয়মান হয় যে বিতর্কিত স্থাপনাটি ভোজশালা হিসেবে পরিচিত ছিল, যা পরমার বংশের রাজা ভোজের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র।”
এছাড়া আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলার মধ্যে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য আলাদা জমি বরাদ্দ চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মতে, ভোজশালা হলো রাজা ভোজ প্রতিষ্ঠিত সরস্বতী মন্দির। অপরদিকে মুসলিম পক্ষের দাবি, স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২০০৩ সালে এএসআই-এর মধ্যস্থতায় হওয়া এক সমঝোতা অনুযায়ী, মঙ্গলবার হিন্দুরা এবং শুক্রবার মুসলমানরা সেখানে প্রার্থনার সুযোগ পেয়ে আসছেন।
পরে হিন্দু পক্ষ ওই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে এবং পুরো কমপ্লেক্সে একচ্ছত্র উপাসনার অধিকার দাবি জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সে বৈজ্ঞানিক জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়।
একই বছরের ২২ মার্চ জরিপকাজ শুরু করে এএসআই। টানা ৯৮ দিনের বিশদ অনুসন্ধান শেষে তারা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মসজিদের আগেই পরমার শাসকদের আমলে সেখানে একটি বৃহৎ স্থাপনা ছিল এবং পরবর্তীকালে সেই স্থাপনার পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহার করে বর্তমান বিতর্কিত কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
হিন্দু পক্ষের দাবি, জরিপ চলাকালে উদ্ধার হওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপি প্রমাণ করে যে স্থানটি মূলত একটি মন্দির ছিল।
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ আদালতে দাবি করে, এএসআই-এর জরিপ প্রতিবেদন নিরপেক্ষ নয়; বরং হিন্দু আবেদনকারীদের বক্তব্যকে সমর্থন করতেই সেটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি