নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভারতের বন্দিশালায়!

দিল্লির তথ্য: ভারতে বন্দি ১,০৬৭ বাংলাদেশি, নিখোঁজ ৩৩০ জনের ফিরে আসার সম্ভাবনা কম : গুম তদন্ত কমিশনে জমা ১,৭৫২ অভিযোগ : ব্যক্তিরাই দায়ী, বাহিনী নয়

নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভারতের বন্দিশালায়!

নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভারতের বন্দিশালায়!
নিখোঁজ বাংলাদেশিদের ভারতে পাচারের ভয়াবহ তথ্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দার্শনিক ফরহাদ মজহারকে ভারতে পাচারের চেষ্টা হয়েছিল—এ তথ্য সবারই জানা। একইভাবে ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মাওলানা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকেও ভারতে পাচার করা হয়েছিল। তবে শুধু এই কয়েকজন নয়, শত শত বাংলাদেশিকে গুম করে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের ভারতের কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বন্দি বাংলাদেশিদের তালিকা চায়। এর জবাবে দিল্লি ১,০৬৭ জনের তালিকা দিয়েছে। তদন্ত কমিশন এখন এই তালিকার সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তিদের নাম মেলানোর কাজ করছে। গতকাল ঢাকার গুলশানে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। ভারত ১,০৬৭ জনের তালিকা দিয়েছে, যা কমিশন পর্যালোচনা করছে। এতে গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি আছেন কিনা তা অনুসন্ধান চলছে। ভারত আরও তালিকা দেবে বলে জানিয়েছে।” কমিশনের কাছে বর্তমানে ৩৩০ জনের তালিকা রয়েছে, যারা গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে আসেননি। তাঁদের ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করছে কমিশন। এছাড়া, ধামরাই থেকে গুম হওয়া মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে গত ২২ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কমিশন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বিজিবির সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। পুলিশ ১৪০ জনের তালিকা দিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুম হওয়া ব্যক্তির নাম সেখানে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও বিজিবির কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করার অভিযোগ ও গুমের ভয়াবহ চিত্র

গত ১৫ বছরে স্বাধীন বাংলাদেশ কার্যত ভারতের ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দিল্লির নির্দেশনায় প্রশাসন, নিয়োগ, বদলি, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মনোনয়নসহ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের অনুকরণে বাংলাদেশও দিল্লির প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

বিরোধী দল বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আয়নাঘর থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাঁদের হিন্দি ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যা এ অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান

গতকাল ঢাকার গুলশানে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন জানান, শুধু ডিজিএফআই-এর আয়নাঘর নয়, বরং র‍্যাব ও বিজিবির আয়নাঘরেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থানে আটক ব্যক্তিদের গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গুমের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির জন্য পুরো বাহিনী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তবে এটি বাহিনীর দায় নয়, বরং ব্যক্তিগত অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধীরা অনেক সময় নিজ ধর্ম, সম্প্রদায় বা সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করে, যা আইডেনটিটি-বেজড ডিফেন্স বা কমিউনিটি শিল্ডিং নামে পরিচিত। কিন্তু আইনের বিচারে ব্যক্তিগত দায়ই মুখ্য।”

আইনের আওতায় আনতে হবে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, “যদি গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা যায়, তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন—এটাই আইনের শাসনের মূলনীতি।”

তিনি আরও জানান, গুমসংক্রান্ত কমিশন ‘কমিশনস অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ অনুসারে কাজ করছে এবং এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। ফলে কোনো বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এতে বাধাগ্রস্ত হবে না।

এই পরিস্থিতিতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য কী হবে এবং ভারতের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ কী—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গোপন বন্দিশালা ও গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, বগুড়া পুলিশ লাইনের ভেতরে একটি গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা গত ১৫ বছরে নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু বগুড়া নয়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ডিজিএফআই, সিটিটিসি ও র‍্যাবের নিয়ন্ত্রণাধীন আরও বেশ কয়েকটি গোপন বন্দিশালা চিহ্নিত করা হয়েছে।

কমিশনপ্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনের পর তা অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানকার আলামত নষ্ট করা না হয়। তদন্ত কমিশন গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (আয়নাঘর) এবং র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের টিএফআই পরিদর্শন করা হয়। আলামত ধ্বংসের প্রক্রিয়া দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য মিলে তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন।

গুমের অভিযোগ ও অনুসন্ধান

কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে,

  • ১,৭৫২টি গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১,০০০টি অভিযোগের যাচাই-বাছাই প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
  • ২৮০ জন অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
  • ৪৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
  • গুম হয়ে ফিরে না আসা ৩৩০ জনের ভাগ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে

কমিশন আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা থেকে ভারতীয় কারাগারে পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তালিকায় ১৪০ জন পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুমের শিকার ব্যক্তির নাম সেখানে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও বিজিবির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধান আরও গভীরভাবে চালানো হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ১,০৬৭ জন বাংলাদেশির একটি তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বন্দিদের মধ্যে গুমের শিকার কেউ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন তথ্য পেলে তা কমিশনে পাঠানো হবে

গুম তদন্তে কমিশনের অগ্রগতি

কমিশনপ্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’-এর ১০(১) ও (২) ধারার আওতায় ৭৪টি গুমের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ডিজিএফআই, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে

গুমের ঘটনায় সচেতনতা বাড়াতে কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার, সরকারি কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করছেন

বগুড়ায় গোপন বন্দিশালার সন্ধান

গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন জানিয়েছেন, বগুড়া পুলিশ লাইনের ভেতরে একটি গোপন বন্দিশালা পাওয়া গেছে, যেখানে বন্দিদের এনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হতো

তিনি বলেন,

“এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত (এবসার্ট)। পুলিশ লাইনের ভেতরে এমন একটি গোপন বন্দিশালা বানানো হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে বন্দিদের এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। এটি গত ১০-১২ বছরের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে। সেখানে নির্যাতনের মাধ্যমে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”

নূর খান লিটনের মতে, এ ধরনের আরও বন্দিশালা দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকতে পারে, যা কমিশন তদন্ত করছে।

গুমের দায় ব্যক্তিগত, বাহিনীর নয়

কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন,

“অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে কাজ করেছেন। তবে গুমের তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। এখন যারা গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পালাতে সাহায্য করছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী।”

তিনি আরও বলেন,

“আইনের শাসনের স্বার্থে গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, তা কোনো বাহিনীর ওপর দায় চাপানো যাবে না।”

গুম তদন্ত কমিশনের লক্ষ্য

গুমসংক্রান্ত কমিশন বলেছে,

“আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা বা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্যরা যদি সরকারি অনুমোদন বা নির্দেশে কাউকে গুম করে থাকেন, তবে তা তদন্তের আওতায় আনা হবে।”

কমিশন এখন পর্যন্ত ১,৭৫২টি অভিযোগের মধ্যে ১,০০০টি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে এবং ২৮০ জন অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, ৪৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে

গুম তদন্তে নতুন দিগন্ত

গুমের শিকার হয়ে ফিরে না আসা ৩৩০ জনের ভাগ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বিজিবির সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য চাওয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া ১৪০ জনের তালিকায় এখনো কোনো গুমের শিকার ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি, তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চলছে।

এই তদন্তের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য কী হবে এবং কারা এ ঘটনার পেছনে জড়িত, তা পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গুম তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি: সাবেক ডিজিএফআই প্রধানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয় ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি। কমিশনপ্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রেফতার সম্ভব না হলে অনুপস্থিতিতেই তাদের বিচার চলবে

কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন: ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’

গুম তদন্ত কমিশন ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করছে

গত ১৪ ডিসেম্বর কমিশন ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:

গত ১৫ বছরে সংঘটিত গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যরা

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
✅ অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারক ও কমিশনের সদস্য মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী
✅ মানবাধিকার কর্মী ও কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন

এই তদন্ত কমিশনের কাজ গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করা, দোষীদের চিহ্নিত করা এবং বিচারের আওতায় আনা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলো কার্যকর করার পাশাপাশি অনুপস্থিত বিচারের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে

4o

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *